ইউসেপ বাংলাদেশ ঢাকা উত্তর অঞ্চল কর্তৃক
নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ দিবস' ২০২৫ পালিত
নূর হোসাইন:
ইউসেপ বাংলাদেশ ঢাকা উত্তর অঞ্চল কর্তৃক
নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ দিবস' ২০২৫ পালিত , মঙ্গলবার সকাল ১১ ঘটিকায় ২৫শে নভেম্বর, ২০২৫ ইং এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় ইউসেপ কনফারেন্স হল কক্ষে , ইউসেপ বাংলাদেশ ঢাকা উত্তর অঞ্চল কর্তৃক । ইউসেপ অফিস ,প্লট: ২ ও ৩, মিরপুর - ২, ঢাকা - ১২১৬ তে
ওই দিন সকাল ১১:০০ মি. - ১১:১০ মি. অতিথিদের আসন গ্রহণ এর মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।
ইঞ্জি: সৈয়দ নাজিম ওবায়েদ, অধ্যক্ষ ইউআইএসটি এবং দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত ইউসেপ ঢাকা উত্তর অঞ্চল এর সভাপতিত্বে শাহজাদী সুলতানা, ইনচার্জ, সোশ্যাল ইনক্লুশন এ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট, ঢাকা উত্তর অঞ্চল এর স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে। এছাড়াও বক্তব্য প্রদান করেন - মো: মনিরুজ্জামান, টীম লিডার, ডিসেন্ট এমপ্লয়মেন্ট এ্যান্ড ইনক্লুশন, ইউসেপ ঢাকা উত্তর অঞ্চল, ইমাম হোসেন, হেড অব টিভিইটি ইন্সটিটিউট, ইউসেপ ঢাকা উত্তর অঞ্চল , হোসনে আরা বৃষ্টি, অফিসার ডিসেন্ট এমপ্লয়মেন্ট, গ্রিভেট প্রজেক্ট ইউসেপ ঢাকা উত্তর অঞ্চল। উক্ত অনুষ্ঠান
উপস্থাপনায় ছিলেন শামস-ই-আফরোজ, ফ্যাসিলিটেটর, সোশ্যাল ইনক্লুশন এ্যান্ড ডিসেন্ট
এমপ্লয়মেন্ট।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে শাহজাদী সুলতানা, ইনচার্জ, সোশ্যাল ইনক্লুশন এ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট, ঢাকা উত্তর অঞ্চল বলেন - সম্মানিত প্রিন্সিপাল স্যার এবং উপস্থিত সুধী আসাসালামু আলাইকুম , আজ ২৫ নভেম্বর, মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে ১৯৮১ সালে ল্যাটিন আমেরিকায় নারীদের এক সম্মেলনে এ দিনটিকে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস পালনের ঘোষণা দেয়া হয়। জাতিসংঘ দিবসটি পালনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় ১৯৯৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর। ১৯৭৯ কনভেনশন অন দ্য এলিমিনেশন অফ দ্য অল ফর্মস
ডিস্ক্রিমিনেশন অফ উইমেন (CEDAW), যা সুপারিশ ১২ এবং ১৯-এ নারীদের বিরুদ্ধে
বৈষম্যের অংশ হিসাবে সহিংসতাকে স্বীকৃতি দেয়। ১৯৯৩ সালের মানবাধিকার বিশ্ব সম্মেলন, যা নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতাকে মানবাধিকার

লঙ্ঘন হিসাবে স্বীকৃতি দেয় এবং যা জাতিসংঘের নিম্নলিখিত ঘোষণায় অবদান রাখে। নারীর প্রতি সহিংসতা বলতে নারীর শারীরিক, যৌন, বা মানসিক ক্ষতি বা ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনাময়
যেকোনো কাজকে বোঝায়, যা প্রকাশ্য বা ব্যক্তিগত জীবনে ঘটতে পারে। এটি একটি লিঙ্গ ভিত্তিক
সহিংসতার রূপ যা প্রায়শই লিঙ্গ বৈষম্যের কারণে ঘটে এবং এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটি গুরুতর ঘটনা। এই ধরনের সহিংসতা বিভিন্ন রূপে প্রকাশ পেতে পারে, যেমন শারীরিক নির্যাতন ও যৌন নির্যাতন।
বাংলাদেশে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ দিবস উদযাপন কমিটি ১৯৯৭ সাল থেকে
এ দিবস ও পক্ষ পালন করছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের বিভিন্ন নারী অধিকার ও
মানবাধিকার সংগঠনও নানা কর্মসূচী হাতে নিয়েছে। জাতিসংঘের এবারের নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ২০২৫-এর প্রতিপাদ্য হচ্ছে, 'নারী ও কন্যা শিশুদের বিরুদ্ধে সাইবার সহিংসতা রোধে ঐক্যবদ্ধ হোন। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সাইবার সহিংসতা ও নারীর প্রতি সব ধরনের নির্যাতনকে 'না' বলুন এবং নারী ও কন্যার অগ্ৰসরমাণতা নিশ্চিত করুন”–এ প্রতিপাদ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ পালন করছে। পক্ষটি পালনেরকালে নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতার অবস্থা ও অবস্থান পর্যালোচনা করলেদেখা যায় আগের তুলনায় সহিংসতার মাত্রা যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে তেমনি সহিংসতা নতুন নতুন ধরনের যুক্ত হচ্ছে। ১৩ অক্টোবর ২০২৫ প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপ অনুযায়ী প্রতি চারজনের মধ্যে তিনজন নারী জীবনে কোনো একবার নিকটতম সঙ্গী দ্বারা সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এনির্যাতনের মধ্যে রয়েছে শারীরিক, মানসিক, যৌন ও অর্থনৈতিক সহিংসতা। তিন মাসের নির্যাতনের শিকার ৬৭৮ নারী ও শিশু। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য বলছে আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে মোট ৬৭৮ জন নারী ও শিশু যৌন নিপিড়ন, ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণসহ বিভিন্ন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। শুধু অক্টোবরেই নির্যাতিত হয়েছেন ১০১ কন্যাও ১৩০ নারী। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ধর্ষণ, ধর্ষণ চেষ্টা , ইভটিজিং, সহিংসতা নিয়ে এসেছে ২৬ হাজার ৩১৭ টি কল। এর মধ্যে স্বামীর দ্বারা নির্যাতনের অভিযোগেই কল এসেছে ১৪ হাজার ৯২৮ টি। গত বছর একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ১১ হাজার ৪১৮। পরিসংখ্যান বলছে, নারীরা ঘরেও নিরাপদ নন। আইন ও সালিশ কেন্দ্র জানায়, গত বছরের প্রথম ১০ মাসে পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা ছিল ৪২৭টি, এ বছর বেড়ে হয়েছে ৫০৩টি। স্বামীর হাতে হত্যার ঘটনাও বেড়েছে। ২০২৪ সালে ছিল ১৫৫টি, আর
২০২৫ সালে দাঁড়িয়েছে ১৯৮ টিতে । আসলে শুধু মাত্র দিবস পালন করে এগুলা বন্ধ করা যাবেনা। এগুলা বন্ধ করতে হলে প্রথমে প্রয়োজন সচেতনতা সেটা পরিবার থেকে শুরু করে চাকরি পর্যন্ত সর্বক্ষেত্রে প্রয়োজন সকলের সহযোগীতা
এবং সচেতনতা। তাই এখানে উপস্থিত সকলকে এই আহ্বান জানিয়ে আমি আমার বক্তব্য শেষ
করলাম। অনুষ্ঠানে জিগীষা মানবিক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর হোসাইন এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন আমাদের সংস্থা অসহায় মহিলা শিশুদের আইনী সহায়তা দিয়ে থাকেন, ২০০৮ সাল থেকে এই কার্যক্রম অব্যহত রয়েছে আমাদের নিম্মকোর্ট সহ হাইকোর্টে উকিল রয়েছে ভুক্তভোগীদের আইনী সহায়তা দিতে এবং পাশে দাড়ানোর জন্য। এ সময় উক্ত অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন - বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি সহ ইউসেপ এর কর্মকর্তা বৃন্দ।